খুলনা, বাংলাদেশ | ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ডুমুরিয়ায় শোভনায় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
  ডুমুরিয়ায় নিসচা’র নিরাপদ ঈদ যাত্রা’র লক্ষ্যে রোড ক্যাম্পেইন।
  বৃষ্টির জন্য খেলা বন্ধ, এর আগেই আসল কাজ সেরে নিল পাকিস্তান
  হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়ি-ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
  দিঘলিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
  ধেয়ে আসছে বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’
  ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সম্মানী কত পাবেন, কার্যক্রমের উদ্বোধন কাল
  মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন
  ইন্টারনেট ছাড়াও ব্যবহার করা যায় প্রয়োজনীয় ৫ অ্যাপ
  সেরা ৫ পাওয়ার ব্যাংকের তালিকা প্রকাশ করল গবেষণা সংস্থা

এক সঙ্গে ৯ জনের জানাজা, পাশাপাশি দাফন

[ccfic]

নিজেস্ব প্রতিনিধি মাহিয়া আক্তার:মোংলা পৌর শহরের সাত্তার লেনের ওই বাড়িতে শুক্রবার সকাল থেকেই ছিল মানুষের ঢল । আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষগলো নির্বাক দাঁড়িয়ে আছেন। পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের মাতম ।এক উঠানেই পাশাপাশি রাখা হয়েছে ৯ জনের লাশ। পৌর বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে, মেয়ে, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের এক সঙ্গে জানাজা পড়ানো হয়।শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে দুপুর ২টায় মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে মোংলা পৌর কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় তাদের।জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আব্দুল বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান, রামপাল-মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম, মোংলা থানার ওসি শাহীনুর রহমান শাহীন, পৌর বিএনপির সভাপতি জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ড. ফরিদুল ইসলাম শোক প্রকাশ করে বলেন, একটি পরিবারের এতগুলো প্রাণ একসঙ্গে ঝরে যাওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক।এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট জেলা শাখার নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মনজুরুল হক রাহাত এবং মোংলা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক কোহিনুর সরদার।জানাজা যেনো শোকের মিছিলে পরিনত হয়েছে। মোংলার ইতিহাসে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য তারা আগে কখনো দেখেননি।পরিবারের স্বজনরা জানান, এক দিন আগেও যে বড়িতে ছিল আনন্দ আর কোলাহল। সবাই ছিল বর যাত্রার অপেক্ষায়, সেখানে এখন শবযাত্রার শোকের মিছিলে।বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খুলনা ও বাগেরহাটের রামপাল থেকে নিহতদের লাশ এনে রাখা হয় মোংলার সাত্তার লেনের ওই বাড়িতে। এরপর থেকেই বাড়িটির উঠান যেন পরিণত হয় শোক সমুদ্রে।অন্যদিকে নিহত নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া আক্তার, দাদী রাশিদা বেগম ও নানী আনোয়ারা বেগমের লাশ রাতেই নেওয়া হয় খুলনার কয়রায়। আর মাইক্রোবাস চালক নাঈম শেখের লাশ বাগেরহাটের রামপালের সিঙ্গেরবুনিয়ায় নেয়া হয়েছে।স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পরিবারের ৯ জনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন আশরাফুল রহমান জনি। বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। ছোট ভাই সাব্বিরের বিয়েতে তিনি পরিবারের সঙ্গে কয়রায় গিয়েছিলেন। পরিবারের সবাই মাইক্রোবাসে উঠলেও তিনি পিছনে মোটরসাইকেলে আসছিলেন। সেই কারণে প্রাণে বেঁচে যান। নিজের চোখেই দেখেছেন স্ত্রী, সন্তান আর প্রিয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর দৃশ্য। আপনজনদের হারিয়ে তিনি এখন বাকরুদ্ধ। পরিবারের এতোগুলো মৃত্যুর খবর পেয়ে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন মা আঞ্জুমানয়ারা।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT